রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

২০১৮-এর ফেব্রুয়ারি। সেদিন ছিল তার জন্মদিন। কুয়ালালামপুরের একটি নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের জন্য অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন তিনি। মাথায় পরেছিলেন হিজাব।

তিন বছর আগের সে ঘটনার জন্য মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ তাকে অভিযুক্ত করেছে ‘ইসলাম অবমাননা’ এবং নারীদের পোশাক পরার দায়ে।

আলোচ্য ব্যক্তিটি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী। নাম নূর সাজাত। পেশায় কসমেটিক্স ব্যবসায়ী, ব্যাপকভাবে পরিচিত সামাজিক মাধ্যমেও। সোমবার তিনি জানিয়েছেন, জেলে পাঠানোর হুমকি ও হয়রানির ভয়ে মালয়েশিয়া ছেড়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

অস্ট্রেলিয়ায় ‘নিরাপদ’ বোধ করছেন বলে জানিয়ে নূর সাজাত বলেন, আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন আমার দেশটাতে জন্মেই উল্টো ফেঁসে গেছি। কারণ এখানকার আইন সবসময়ই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতো এবং পুরুষ বলে গণ্য করতে।

তিন বছর আগের এ ঘটনার জন্য এ বছরের জানুয়ারিতে নিজ রাজ্য সেলাঙ্গোরে নূর সাজাতের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়। যার অর্থ হচ্ছে, ‘পুনর্বাসন’-এ যেতে হবে তাকে।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার সরকার ‘মুখাইয়্যাম’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করে, যেখানে সমকামী, ট্রান্সজেন্ডারসহ এলজিবিটিকিউ-দের ‘ধর্মীয় পুনর্বাসন’-এ রাখা হয় এবং তাদের জীবনধারা ও যৌনরুচি ‘বদলানো’র চেষ্টা করা হয়। প্রতিবছর প্রায় ১৭০০ এলজিবিটি মানুষকে বাধ্যতামূলক পাঠানো হয় এই ক্যাম্পে।

যদিও গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ইদরিস আহমেদ বলেছেন, জেলে যাবার চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক ‘অপশন’ (মুখায়্যাম) উন্মুক্ত ছিল নূর সাজাতের জন্য।

তবু, এ ব্যবস্থাকে অনেকেই এলজিবিটিকিউ-দের ‘জেল’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এদিকে নূর সাজাতের দাবি, সমন জারির পর তিনি তার কিছু স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার ইসলামিক বিভাগে। সেখানে তাকে জানানো হয়, জনতার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। নূর সাজাতের অভিযোগ, তাকে ভবনের অভ্যন্তরে তিনজন পুরুষ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। সেখানেই তাকে হাতকড়া পরিয়ে শরীয়াহ আইনে গ্রেফতার করা হয় এবং পুরুষদের কক্ষে রাখা হয়।

ওই ঘটনার পর কোনোক্রমে থাইল্যান্ডে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন নূর। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আবারও অল্পকিছুদিনের কারাবাস শেষে ছাড়া পান। তারপরই মূলত পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়।

এদিকে মালয়েশিয়ায় নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব গত মাসেই বলেছেন, যেহেতু আমাদের দেশটি ইসলামী ভাবধারাকে অনুসরণ করে, তাই এলজিবিটিকিউ প্রশ্নে আমরাও অনড়।

আরও পড়ুন