শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের টেকনাফে এক কলেজ ছাত্রীকে যৌ’ন হ’য়রানির অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে টেকনাফ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌ’ন হ’য়রানির অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন হয়রানির শিকার ওই তরুণী (১৯)।

অভিযোগ সুত্রে জানায়, একজিমা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ওই কলেজ ছাত্রী (১৯) গত ৪ নভেম্বর টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে কর্মরত চিকিৎসক তাকে সেখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন।

সোমবার দুপুরে পায়ের ড্রেসিং করতে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় ওই তরুণীকে। এ সময় ডা. জাকের হোসেন তার সঙ্গে থাকা নার্স ও এক পুরুষ হেলপার উপস্থিত থাকা অবস্থায়ই সম্পূর্ণরূপে কাপড় খুলতে বলেন ওই তরুণীকে।

এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ডা. জাকের হোসেন জোর করে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন অংশে র্স্পশ করে। এসময় প্রতিবাদ করলে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে দেয়া হয় ওই তরুণীকে। তাৎক্ষনিক ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন ভিকটিম। একই দিন এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ করেন ভিকটিম।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জাকের হোসেন বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমার দূর্নাম রটাতে এ মিথ্যা কাহিনী সাজানো হচ্ছে। সেখানে আরও লোক ছিল, তাদের সামনে কিভাবে একটা মেয়ের সাথে খারাপ আচরণ করব, বিষয়টির সত্যতা স্যারেরা তদন্ত করবেন। তবে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) এর কক্সবাজারের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সমীর কুমার হাওলাদার জানান, ওই চিকিৎসক টেকনাফ হাসপাতালে কর্মরত আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করবেন। তাছাড়া কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক বলেন, এক তরুণী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে অবগত করে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কাছে একটি চিঠি প্রদান করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণ হলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী। জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ডাক্তারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন