শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:১০ অপরাহ্ন

জাফরান যে আপনার কত সমস্যার সমাধান- এতদিন জেনে এসেছেন যে জ়াফরান একটি বহুমূল্য এবং অতি সুগন্ধি মশলা, নানা উপাদেয় পদকে আরও সুস্বাদু ও রঙিন করে তোলার কাজেই তার ব্যবহার সীমাবদ্ধ।

কিন্তু একটু খতিয়ে দেখলেই জানতে পারবেন যে যুগ যুগ ধরে নানাভাবে জ়াফরানের ব্যবহার হয়ে এসেছে সৌন্দর্যচর্চা ও সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখার কাজে। প্রায় ৩৫০০ বছর ধরে জ়াফরানের চাষ হচ্ছে পৃথিবীতে। জানেন কি, চিকিৎসাবিদ্যার জনক বলে পরিচিত গ্রিক বুদ্ধিজীবী হিপ্পোক্রেটিস পর্যন্ত সর্দি-কাশি, পেটখারাপ, হার্টের অসুখ, অনিদ্রা ইত্যাদি সমস্যার সমাধানে জ়াফরান ব্যবহারের সপক্ষে সওয়াল করে গিয়েছেন?

এর মধ্যে উপস্থিত ম্যাঙ্গানিজ়ের কল্যাণে নিয়ন্ত্রিত হয় রক্তে শর্করার মাত্রা, হাড়, টিস্যু ও কিছু নির্দিষ্ট হরমোনের কার্যকারিতার উপরেও তা প্রভাব বিস্তার করে। রাতে শোওয়ার আগে যদি সামান্য জ়াফরান মিশিয়ে দুধ পান করার অভ্যেস থাকে, তা হলে নিশ্চিত ভাবেই অনিদ্রা রোগীরা আরাম পাবেন, সেই সঙ্গে ভালো হবে ত্বকের স্বাস্থ্য, বাড়বে হজমশক্তি।

জ়াফরানে উপস্থিত ক্যারোটিনয়েড ক্যানসার ঠেকাতে সক্ষম। আর্থরাইটিসের চিকিৎসায় তা দারুণ কাজে দেয়। তবে যাঁদের লিভার বা কিডনিতে কোনও সমস্যা আছে, তাঁরা নিয়মিত জ়াফরান খাওয়ার আগে অবশ্যই একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

অ্যালজ়াইমার্স ও রেটিনার ডিজেনারেশনে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের চিকিৎসাতেও দারুণ কাজে দেবে এই রেণুর ব্যবহার। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ঝলমলানি বজায় রাখতে জ়াফরানের জুড়ি নেই। সুবিধে হচ্ছে শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি তা ব্রণ বা দাগ-ছোপ নিরাময়েও দারুণ কার্যকর।

নিয়মিত যদি সামান্য জ়াফরান ভেজানো দুধ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে পারেন, তা হলে নিজেই ফারাকটা বুঝতে পারবেন। চন্দনের গুঁড়ো, সর, জ়াফরান দিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগান নিয়মিত সারদিন এসিতে থাকলে ত্বক আর্দ্রতা হারায় চটপট। ফলে সময়ের আগেই বলিরেখা পড়ে। এই প্যাক আপনার সে সব সমস্যার সমাধান করে দেবে নিশিচত ভাবেই।

ভালো কোনও দোকান থেকে বা অনলাইনে সরাসরি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকেও জ়াফরান কেনার সুযোগ মেলে আজকাল। যেখান থেকেই কিনুন না কেন, সস্তার ফাঁদে পা দেবেন না। গুঁড়ো জ়াফরান থেকেও সাবধান, তার মধ্যেও মিশেল থাকতে পারে। তার চেয়ে গোটা জ়াফরান হামানদিস্তায় ফেলে গুঁড়ো করে নেওয়া বুদ্ধিমানের মতো কাজ।

হলুদ ও গোলমরিচের ম্যাজিক!

প্রকৃতি আমাদের এমন কিছু কিছু জিনিস উপহার দিয়েছে, যা শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। প্রাচীনকাল থেকেই রান্নায় ব্যবহার হওয়া অনেক মশলাই সেই প্রাকৃতিক উপহারের অন্যতম। তার মধ্যেই রয়েছে হলুদ এবং গোল মরিচ।

হলুদ এবং গোল মরিচ উভয়ই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটা অনেকেই জানেন। তাহলে আবার কেন প্রশ্ন থাকতে পারে? তবে এখানে এ দুটি উপকারী মশলাকে আলাদাভাবে না খেয়ে কেন একসঙ্গে খেলে যে উপকার পাওয়া সম্ভব তার কথা বলা হচ্ছে।

কারণ হলুদে থাকে কারকুমিন নামক এক ধরনের উপাদান। হলুদের উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে এই কারকুমিনের ওপর। কিন্তু কারকুমিন নিজে থেকে শরীরে ভালোভাবে মিশে যেতে পারে না। সেক্ষেত্রে গোলমরিচের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কারকুমিন পুরোপুরি শরীরে মিশে যায়। তাতে উপকারও মেলে অনেক।

গোল মরিচের মধ্যে রয়েছে পাইপারিন। কারকুমিন ও পাইপারিন একসঙ্গে স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।

এবার জেনে নেওয়া যাক এ দুটির ফলে কী কী উপকার পাওয়া সম্ভব-

১- হলুদ ও গোলমরিচ একসঙ্গে খেলে হজম ক্ষমতা বাড়ে।

২- পেইন কিলার হিসেবেও কাজ করে এ দুটি মশলা। তাই শরীরে ব্যথা-বেদনা দেখা দিলে হলুদ ও গোলমরিচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।

৩- ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতেও কারকুমিন ও পাইপারিনের জুড়ি নেই।

আরও পড়ুন