সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম তার গ্রাহকদের ২৫০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। অন্যদিকে পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে প্রতিষ্ঠানটির ৩৯৭ কোটি টাকা জমা আছে। ফলে গ্রাহকদের টাকা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মিন্টু রোডের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান এ কে এম হাফিজ আক্তার। ই-কমার্স ব্যবসার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রিপন মিয়াকে রোববার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার বেলা ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিপন মিয়াকে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন ই-কমার্স ব্যবসার দ্রুত প্রসার ঘটায় কিউকম তাদের ব্যবসা শুরু করে। অনেক ক্রেতা কিউকমে পণ্য অর্ডার করে তা পাননি। তাদের অনেকে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। এর ফলে কিউকমের সিইওকে আটক করা হয়েছিল। পরে সোমবার একজন ভুক্তভোগী কিউকমের মালিক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করেন।’

হাফিজ আক্তার বলেন, ‘‘কিউকম প্রায় লক্ষাধিক পণ্য অনলাইনে বিক্রি করেছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কিউকম ‘বিজয় আওয়ার’, ‘স্বাধীনতা আওয়ার’, ‘বিগ বিলিয়ন’ নামে ২ থেকে ১৫ দিন সময় দিয়ে অনেক কম দামে মোটরসাইকেল বিক্রির অফার দিত। ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার মোটরসাইকেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রির অফার দিয়েছিল কিউকম।

তখন কমদামে মোটরসাইকেল পেতে কিউকমে অর্ডার দিয়ে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করেন গ্রাহকরা। কিন্তু কিউকম পণ্য সরবরাহ করে না। পরে গ্রাহকরা যোগাযোগ করলে তাদের লাভসহ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। গ্রাহকরা রাজি হলে নগদ টাকা না দিয়ে চেক দিত কিউকম।’

তবে অনেক গ্রাহক তাদের টাকাও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন। ডিবি প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, ‘কিউকমের মালিক ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মত করেই ব্যবসায়ের মডিউল পরিকল্পনা করেছিলেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা তুলে আনতে মোটরসাইকেলের উপর বড় ধরনের ছাড়ের অফার দিয়েছিল।’

তবে অন্য ই-কমার্সের মতো কিউকম টাকা আত্মসাৎ বা টাকা পাচার করেনি বলে জানান এই কর্মকর্তা। গ্রাহকের টাকার একটা বড় অংশ গেটওয়ের কাছে আটকে আছে বলেও জানান তিনি। হাফিজ আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুন মাসে এসক্রো সিস্টেম চালু করে। এতে গ্রাহকের টাকা সরাসরি বিক্রেতার হাতে যায় না। পণ্য বুঝে পাওয়ার পরই টাকা পেত বিক্রেতারা।

কিউকমের পেমেন্ট গেটওয়ে ছিল ফস্টার। কিউকম ক্রেতাকে পণ্য বুঝিয়ে দিয়ে চালানসহ নথিপত্র ফস্টারের কাছে জমা দিত। ফস্টার তখন ক্রেতাকে ফোন করে নিশ্চিত হত তিনি টাকা বুঝে পেয়েছেন কি না। এরপর কিউকম পণ্যের টাকা বুঝে পেত।’ টাকার এখন যে অবস্থা তাতে তদন্তের পর গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পেতে পারেন বলে জানান হাফিজ আক্তার।

রিপন মিয়ার ব্যাংকে কত টাকা আছে এবং গ্রাহকদের এটা কীভাবে সে ফিরত দেবে? -এ বিষয়ে রিপন মিয়া কিছু জানিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সে আমাদের কাছে বলে গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিয়ে এ সমস্যা থেকে বের হতে পারবে বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন